ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়ানোর লক্ষ্যে বার্সেলোনার প্রচেষ্টা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই ক্লাবের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর সমঝোতার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ উপেক্ষা করে রদ্রি নিজেই বার্সেলোনাকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার পর গত সপ্তাহে আলোচনা শুরু হয়। ম্যানচেস্টার সিটি তার সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে চাইলেও খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইংলিশ ক্লাবটি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মিডফিল্ডারকে কম মূল্যে ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। সিটির দাবি, রদ্রিকে নিতে হলে অন্তত ৮ কোটি ইউরো খরচ করতে হবে।
বার্সেলোনার প্রথম প্রস্তাব ছিল প্রায় ৫ কোটি ইউরো, যা সিটি দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করে। এরপর কাতালান ক্লাবটি দ্বিতীয় দফায় আরও প্রায় ১ কোটি ইউরো বাড়িয়ে প্রস্তাব দিলেও তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি প্রিমিয়ার লিগের দলটি।
তবে সর্বশেষ প্রস্তাবে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। মার্কার তথ্য অনুযায়ী, বোনাসসহ বার্সেলোনার তৃতীয় প্রস্তাবের মূল্য প্রায় ৭ কোটি ইউরো। এই অঙ্ক সিটির চাহিদার কাছাকাছি হওয়ায় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ জোরালো। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সমঝোতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এদিকে রদ্রি ইতোমধ্যে ম্যানচেস্টারে ফিরে গেছেন এবং দলের অনুশীলন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। যদিও তিনি মূল স্কোয়াডের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে নামেননি, তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রিকভারি সেশন সম্পন্ন করেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গেও দেখা করেছেন এই মিডফিল্ডার। রদ্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মারেস্কা সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, ‘যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’
অন্যদিকে, দলবদলের বাজার বন্ধ হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকায় বার্সেলোনার ওপর চাপও বাড়ছে। ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক ডেকোর সামনে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য রদ্রির স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আতলেতিকো মাদ্রিদের তারকা হুলিয়ান আলভারেজকে দলে আনার চেষ্টা, হোয়াও কানসেলোর স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন করা এবং মার্ক কাসাদোর সম্ভাব্য বিক্রির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কাতালান জায়ান্টরা।


